প্রকাশিত:
১২ মে ২০২৬, ১৬:৫৫
শিপন ভূঁইয়া: ইন্স্যুরটেক (Insurtech) হলো ইন্স্যুরেন্স ও টেকনোলজির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এমন একটি ব্যবস্থা, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT), বিগ ডেটা এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বীমা সেবা সহজতর করে। বীমা কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ যেমন—পলিসি রেজিস্ট্রেশন, ঝুঁকি মূল্যায়ন, ক্লেইম সেটেলমেন্টসহ গ্রাহক সেবাকে অধিকতর প্রযুক্তিগত ও জনবান্ধব করাই এর মূল লক্ষ্য।
ইন্স্যুরটেক বর্তমানে একটি উদীয়মান ডিজিটাল বীমা প্ল্যাটফর্ম। এটি মূলত বেসিস (BASIS) ইন্স্যুরটেক রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স প্রযুক্তি সংস্থা এবং প্রচলিত বীমাকারীদের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। উল্লেখ্য যে, বিশ্বে বীমা অনুপ্রবেশের হার সবচেয়ে কম এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আমাদের জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান মাত্র ০.৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে বাংলাদেশে এই খাতটি নিয়ে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে।
আইডিআরএ (আইডিআরএ) তথ্য মতে, অক্টোবর ২০২৫ সালের হালনাগাদ রিপোর্ট অনুযায়ী অনুমোদিত ইন্স্যুরটেক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭টি। এর মধ্যে ঢাকা ভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস 'বীমাফাই' স্বাস্থ্য, মোটর ও ভ্রমণ বীমার তুলনা, ক্রয় এবং দাবি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে 'আদর্শ প্রাণিসেবা লিমিটেড' ডিজিটাল ইন্স্যুরটেক সমাধানের মাধ্যমে খামারিদের জীবনমান উন্নয়ন ও পশুপালন বীমা নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া আরও বেশ কিছু ইন্স্যুরটেক প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে দক্ষতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশে বেকারত্বের হার প্রায় ৪.৭ শতাংশ হতে পারে। ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৯ লাখ গ্রাজুয়েট বা শিক্ষিত বেকার রয়েছে। এই বিশাল শিক্ষিত জনগোষ্ঠী সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে জনসম্পদ হওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৯৬ লাখের বেশি, যার মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই হলো প্রায় ১১ কোটি ৪৮ লাখ! বর্তমান যুগে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় খুব সহজেই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব। প্রচলিত বীমা ব্যবস্থার তুলনায় ইন্স্যুরটেক অনেক বেশি আধুনিক ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
আমাদের এই বিশাল শিক্ষিত জনগোষ্ঠী যদি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করে, তবে ইন্স্যুরটেক খাতে ক্যারিয়ার গড়ার এক অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে যেমন বীমা শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে জিডিপিতে বীমার অবদান বাড়বে, তেমনি শিক্ষিত বেকারত্ব দূরীকরণেও তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
লেখক: কলামিস্ট (বীমা খাত)
এমএসএস
মন্তব্য করুন: