প্রকাশিত:
১৬ মার্চ ২০২৫, ১৫:৫১
নাদিরা ইসলাম, এমএএস: আমরা যদি একটু মনোযোগ দেই তাহলে একটা ব্যাপার ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারি তা হচ্ছে, যখন শিক্ষাজীবন শেষ হয় কিংবা শেষ হওয়ার আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা ভাবতে থাকে তাদের বহুল প্রত্যাশিত কর্মক্ষেত্রটি হবে স্বপ্নের মতো। যেহেতু সারাজীবনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা সব কিছুরই প্রতিফলন হচ্ছে একটা ভালো চাকরি এবং কর্মক্ষেত্র।
আর সেই কর্মক্ষেত্রে যখন কর্মচারিরা দেখবে প্রতিষ্ঠান শুধু এমপ্লয়িদের বেতনই দিচ্ছে না, বরং সাথে থাকছে ছোট-বড় আরো অনেক ধরনের সুবিধা এবং তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত চাহিদাগুলোর প্রতি প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট যত্নশীল, তখন এমপ্লয়িদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা অনেকগুণে বেড়ে যায়।
অনেকভাবেই সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এমপ্লয়িদের মনোবল হাজার গুণ বৃদ্ধি পেতে এমপ্লয়ি বেনিফিট সহায়ক হিসেবে কাজ করে, যা কোম্পানির জন্য দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য বয়ে আনে।
কর্মক্ষেত্রে যেভাবে এমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট দেয়া যেতে পারে-
মৃত্যু এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় এনে: প্রথম এবং বিশেষ সুবিধার আওতায় অবশ্যই এমপ্লয়ি বেনিফিট হিসেবে গ্রুপ এবং স্বাস্থ্য বীমা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও আরো কিছু সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রতি এমপ্লয়িদের মনোবল, কাজের প্রতি আগ্রহ ও প্রেরণা অনেক গুণে বেড়ে যায় এবং কর্মচারীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য তৈরী করে- যা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ মেয়াদী সাফল্য বয়ে আনে।
প্রতিষ্ঠানের এমপ্লয়িদের গ্রুপ (মৃত্যুজনিত সুরক্ষা) এবং স্বাস্থ্যবীমার আওতায় নিয়ে আসলে কর্মচারীরা কর্মক্ষেত্রে নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন। কারণ তারা এই ভেবে নিশ্চিন্তে থাকেন যে (আল্লাহ মাফ করুক ) তাদের অবর্তমানে পরিবার একটা বড় ধরনের আর্থিক সুরক্ষা পাবে কিংবা শারীরিক অসুস্থতায় চিকিৎসা বীমার মাধ্যমে থাকতে পারেন একদমই সুরক্ষিত। এতে করে কর্মচারীদের মাথা থেকে অনেক বড় চিন্তা দূর হবে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য বেড়ে যাবে অনেকগুণ।
প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়ে: অনেক সময় আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে কর্মচারীরা প্রয়োজন থাকলেও ছোট বড় অনেক ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে পারেন না। এক্ষেত্রে কোম্পানি যদি আর্থিক সুরক্ষা দিয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরী করে দেন তাহলে সেই এমপ্লয়ি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে কোম্পানিতেই তার মেধা এবং অভিজ্ঞতার প্রয়োগ করবে- যা কোম্পানির জন্য একধরনের ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে থাকবে।
কাজের মূল্যায়নের মাধ্যমে: অনেক প্রতিষ্ঠানে এমপ্লয়িরা তাদের মেধা, বুদ্ধি, একাগ্রতা এবং সবটুকু কর্মদক্ষতা দিয়ে কাজ করার পরও বছর শেষে ঠিকঠাক মূল্যায়ন পাচ্ছে না। এতে করে এমপ্লয়িদের কাজে অমনোযোগী এবং অস্থিরতা বেড়ে যায়। সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মনোবল হারিয়ে ফেলেন। কর্মীকে উৎসাহিত করার জন্য সবসময় যে আর্থিক ব্যাপারটাই উল্লেখিত দিক, তা নয়; একটা এপ্রেসিয়েশন লেটার-ই যথেষ্ট কাজে মনোবল এবং আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে।
এমপ্লয়ি বেনিফিট শুধুমাত্র একটা আর্থিক সুরক্ষাই নয়, এটি আসলে কর্মীদের প্রতি সন্মান ও যত্নের বহি:প্রকাশও বটে। এই সকল সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে কর্মীদের বুঝতে সাহায্য করে যে প্রতিষ্ঠান তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। ঠিক যেমন কর্মীরাও প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে সু-সম্পর্ক তৈরী হয় তা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য বয়ে আনে এবং আনবে।
লেখক: এসভিপি এন্ড এইচওডি, অ্যাকচুয়ারিয়াল ডিপার্টমেন্ট, আকিজ তাকাফুল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।
এমএসএস
মন্তব্য করুন: