insurancejobsbd@gmail.com শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

টার্গেট প্রেশার ও মানসিক স্বাস্থ্য: বীমা পেশায় সুস্থ কর্মপরিবেশের গুরুত্ব


প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৪

এস এম জিয়াউল হক, এফএলএমআই: বীমা খাত মূলত লক্ষ্যমাত্রা বা টার্গেট-নির্ভর একটি গতিশীল শিল্প। মাস শেষের ক্লোজিং, সেলস প্রেশার, ক্লায়েন্ট রিলেশনশিপ রক্ষা এবং নতুন পলিসি অর্জনের সার্বক্ষণিক দৌড়ঝাঁপ- একজন বীমা পেশাজীবীর দৈনন্দিন কর্মজীবনকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও চাপযুক্ত করে তোলে।

পেশাগত সাফল্যের এই অবিরাম প্রতিযোগিতায় আমরা প্রায়শই যে বিষয়টি উপেক্ষা করে যাই, তা হলো আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য বা মেন্টাল ওয়েলনেস। কাজের চাপ, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের উদ্বেগ এবং প্রতিনিয়ত পারফরম্যান্স প্রমাণের প্রত্যাশা একজন কর্মীর মানসিক প্রশান্তিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৮ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। কর্পোরেট জগতে কাজের অতিরিক্ত চাপে বার্নআউট, দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ কিংবা কর্মোদ্যম কমে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সমস্যাটি তখনই জটিল রূপ নেয়, যখন একে কাজের একটি ‘স্বাভাবিক অংশ’ ভেবে অবহেলা করা হয়।

পেশাগত উৎকর্ষ ও মানসিক সুস্থতার যোগসূত্র

দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ারে সফল হতে এবং প্রতিষ্ঠানকে টেকসই প্রবৃদ্ধি উপহার দিতে মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা অপরিহার্য। একজন সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ কর্মী শুধু নিজের কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করেন না; তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করেন, ভালো সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেন।

কর্মজীবনে এর প্রভাব কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয়-

সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: চাপমুক্ত ও সতেজ মানসিক অবস্থা জটিল মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, যা সেলস কনভার্সন রেট এবং ব্যক্তিগত প্রোডাক্টিভিটি বহুলাংশে বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইতিবাচক গ্রাহক যোগাযোগ: বীমা পেশা পুরোপুরি সম্পর্ক ও আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকলে গ্রাহকের চাহিদা ও উদ্বেগ গভীরভাবে অনুধাবন করা এবং তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পেশাদার সম্পর্ক তৈরি করা সহজ হয়।

বার্নআউট প্রতিরোধ ও ক্যারিয়ারে স্থায়িত্ব: শারীরিক ক্লান্তির চেয়েও মানসিক ক্লান্তি একজন দক্ষ পেশাজীবীকে দ্রুত পিছিয়ে দিতে পারে। কাজের ফাঁকে নিয়মিত বিরতি, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন এবং একটি ইতিবাচক কর্মপরিবেশ ক্যারিয়ারে দীর্ঘস্থায়ী স্থায়িত্ব এনে দেয়।

কর্মক্ষেত্রে ‘ক্লাব কালচার’: কাজের বাইরে মানুষকে জানার সুযোগ

একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা শুধু একটি নির্দিষ্ট পদ, টার্গেট বা দায়িত্বের নাম নয়; প্রত্যেক কর্মীর নিজস্ব আগ্রহ, প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্ব রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ‘Club Culture’ বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাব সংস্কৃতি একটি কার্যকর ও ইতিবাচক সংযোজন হতে পারে।

একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের মানুষ যখন কাজের বাইরের কোনো অভিন্ন আগ্রহকে কেন্দ্র করে একত্রিত হন, তখন পদমর্যাদা ও সাংগঠনিক স্তরের সীমারেখা কিছুটা শিথিল হয়। তৈরি হয় পারস্পরিক পরিচয়, বন্ধুত্ব, আস্থা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র।

প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের আগ্রহ ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্লাব গঠন করা যেতে পারে, যেমন-

স্পোর্টস ক্লাব: ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, দাবা, ইনডোর গেমস ইত্যাদি।

কালচারাল ক্লাব: গান, আবৃত্তি, নাটক, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ন্যাচার এন্ড ট্রাভেল ক্লাব: প্রকৃতি ভ্রমণ, দেশভ্রমণ, পাহাড়-সমুদ্র অভিযান, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা।

মুভি এন্ড ফিলম ক্লাব: নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন, আলোচনা ও চলচ্চিত্রভিত্তিক সৃজনশীল কার্যক্রম।

ম্যাগাজিন এন্ড ক্রিয়েটিভ ক্লাব: প্রতিষ্ঠানের ম্যাগাজিন, নিউজলেটার, লেখা, ফটোগ্রাফি, গল্প, কবিতা ও অন্যান্য সৃজনশীল প্রকাশনা।

নলেজ এন্ড লার্নিং ক্লাব: বইপাঠ, আলোচনা, প্রেজেন্টেশন, নতুন ধারণা বিনিময় ও পেশাগত জ্ঞানচর্চা।

এই ক্লাবগুলোর মূল উদ্দেশ্য কাজের বিকল্প তৈরি করা নয়; বরং কাজের চাপের মধ্যে কর্মীদের জন্য একটি সুস্থ সামাজিক, মানসিক ও সৃজনশীল পরিসর তৈরি করা।

ক্লাব কালচার কীভাবে এমপ্লয়ি বন্ডিং (কর্মী বন্ধন) বাড়ায়

একটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের মধ্যে অনেক সময় প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগাযোগ থাকলেও ব্যক্তিগত পরিচিতি বা বন্ধুত্বের সুযোগ কম থাকে। ফলে ‘আমরা’ অনুভূতির পরিবর্তে ‘আমি আমার বিভাগ’ -এমন একটি মানসিক বিভাজন তৈরি হতে পারে।

ক্লাব সংস্কৃতি সেই দূরত্ব কমাতে সাহায্য করে। একজন ফাইন্যান্স’র কর্মী, একজন সেলস এর কর্মকর্তা, একজন এইচআর প্রফেশনাল এবং একজন আইটি কর্মকর্তা যখন একই স্পোর্টস ক্লাব বা ট্রাভেল ক্লাবের কার্যক্রমে অংশ নেন, তখন তারা শুধু সহকর্মী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে একে অন্যকে জানার সুযোগ পান।

এতে আস্থা বাড়ে, যোগাযোগ সহজ হয়, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মিলিত দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী টিমওয়ার্ক অনেক সময় অফিসিয়াল মিটিংয়ের চেয়ে অনানুষ্ঠানিক পরিচয় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া থেকেই বেশি শক্তিশালী হয়।

সৃজনশীলতা থেকে নেতৃত্বের বিকাশ

ক্লাব সংস্কৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো এটি কর্মীদের মধ্যে নেতৃত্ব চর্চার একটি স্বাভাবিক ক্ষেত্র তৈরি করে। একটি ক্লাব পরিচালনার জন্য কাউকে অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করতে হয়, কাউকে বাজেট তৈরি করতে হয়, কাউকে সদস্যদের সমন্বয় করতে হয়, কাউকে যোগাযোগ ও প্রচারের দায়িত্ব নিতে হয় এবং কাউকে পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিতে হয়।

অর্থাৎ, একজন কর্মী তার নিয়মিত কাজের বিবরণীর বাইরে গিয়ে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন নেতৃত্বমূলক দক্ষতা অনুশীলনের সুযোগ পান। যেমন- পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ; টিম পরিচালনা; কর্ম বণ্টন; অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা; দ্বন্দ্ব ব্যবস্থাপনা; সমঝোতা ও সমস্যা সমাধান; সময় ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং অনুষ্ঠান উপস্থাপনা। এই দক্ষতাগুলো পরবর্তীতে তার মূল পেশাগত দায়িত্বেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে ক্লাব নেতৃত্ব থেকে কর্মক্ষেত্রের নেতৃত্বের একটি স্বাভাবিক সেতুবন্ধন তৈরি হয়।

পেশাগত অগ্রগতির জন্য একটি ‘কোমল নেতৃত্ব চর্চাগার’

প্রতিষ্ঠানের ক্লাবগুলোকে শুধু বিনোদনের ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত সম্ভাবনাকে ছোট করে দেখা হবে। সঠিকভাবে পরিচালিত হলে এগুলো হতে পারে একটি ‘কোমল নেতৃত্ব চর্চাগার’- যেখানে কর্মীরা অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছন্দ পরিবেশে নেতৃত্ব, দল পরিচালনা ও সৃজনশীলতার বাস্তব অনুশীলন করতে পারেন।

বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রত্যেক কর্মীর পেশাগত দক্ষতা তার জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) বা কাজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দৃশ্যমান হলেও, তার নেতৃত্বের সম্ভাবনা সবসময় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ পায় না। ক্লাব কার্যক্রম সেই সম্ভাবনাকে প্রকাশ করার একটি অতিরিক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে।

একজন কর্মী হয়তো বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা (সেলস টার্গেট) অর্জনে ভালো করছেন; কিন্তু ক্লাবের একটি অনুষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করতে গিয়ে তার মধ্যে এমন নেতৃত্বের গুণ প্রকাশ পেল, যা ভবিষ্যতে তাকে টিম লিডার, বিভাগীয় প্রধান কিংবা আরও উচ্চতর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করতে পারে।

সুতরাং, ক্লাব সংস্কৃতি কোনো ‘অতিরিক্ত সহ-শিক্ষা কার্যক্রম’ মাত্র নয়; বরং এটি কর্মী সম্পৃক্ততা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং পেশাগত অগ্রগতির একটি কৌশলগত উপাদান হতে পারে।

মানসিক চাপ কমাতে ক্লাব সংস্কৃতির ভূমিকা

টার্গেট-নির্ভর বীমা পেশায় প্রতিদিনের কাজের চাপ সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই চাপ মোকাবিলার জন্য কর্মীদের একটি সুস্থ ‘মানসিক চাপ মুক্তির উপায়’ দেওয়া সম্ভব।

খেলাধুলা শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সৃজনশীলতা বাড়ায়, ভ্রমণ ও প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ মানসিক সতেজতা ফিরিয়ে আনে, চলচ্চিত্র ও বই আলোচনা চিন্তার নতুন দিগন্ত খুলে দেয় এবং লেখালেখি বা ম্যাগাজিনে অংশগ্রহণ নিজের ভাবনা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে। ফলে কর্মী অফিসে শুধু ‘কাজ করতে আসা মানুষ’ হিসেবে নয়, বরং একটি বৃহত্তর সামাজিক ও সৃজনশীল কমিউনিটির অংশ হিসেবে নিজেকে অনুভব করেন। এটি কর্মীদের মনোবল, একাত্মবোধ এবং প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

প্রতিষ্ঠান ও নেতৃত্বের করণীয়

মানসিক স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তির একার দায়িত্ব নয়, বরং এটি আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিরও একটি বড় অংশ। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত কর্মীদের জন্য একটি সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা, কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের সুষম ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বা পরামর্শ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত রাখা।

এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের উচিত এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করা যেখানে- লক্ষ্যমাত্রা থাকবে, কিন্তু লক্ষ্য অর্জনের চাপে মানুষ হারিয়ে যাবে না; কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন থাকবে, কিন্তু মানুষের সৃজনশীলতা হারিয়ে যাবে না; প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সহকর্মীদের মধ্যে সহযোগিতা নষ্ট হবে না।

এই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে 'ক্লাব সংস্কৃতি' বা সংঘবদ্ধতাকে একটি পরিকল্পিত 'কর্মী সম্পৃক্তকরণ কৌশল' হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ক্লাব পরিচালনায় বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজন, ক্লাবের বার্ষিক কর্মসূচি তৈরি এবং তরুণ কর্মীদের নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

তবে এটিও নিশ্চিত করতে হবে যে, ক্লাব কার্যক্রম যেন নতুন করে কোনো ‘কাজের বাড়তি চাপে’ পরিণত না হয়। এগুলোর উদ্দেশ্য হবে- স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, আনন্দ-বিনোদন, পারস্পরিক বন্ধন, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের বিকাশ; নতুন কোনো লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দেওয়া নয়।

সুস্থ কর্মী, শক্তিশালী দল, দূরদর্শী নেতৃত্ব

একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি শুধু তার বিক্রয়, মুনাফা বা ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে নয়; কর্মীদের সক্ষমতা, পারস্পরিক আস্থা এবং নেতৃত্বের মানের মধ্যেও তা নিহিত থাকে। যেখানে কর্মীরা মানসিকভাবে সুস্থ, সেখানে তারা ভালোভাবে চিন্তা করতে পারেন। যেখানে পারস্পরিক বন্ধন শক্তিশালী, সেখানে দলগত কাজ সহজ হয়। যেখানে সৃজনশীলতার সুযোগ থাকে, সেখানে নতুন ধারণার জন্ম হয়। আর যেখানে কর্মীদের ছোট ছোট পরিসরে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকে, সেখান থেকেই ভবিষ্যতের বড় নেতৃত্ব তৈরি হয়।

অতএব, একটি আধুনিক বীমা প্রতিষ্ঠানে মানসিক সুস্থতা, কর্মীদের পারস্পরিক বন্ধন, ক্লাব সংস্কৃতি এবং নেতৃত্বের বিকাশ- এই চারটি বিষয়কে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং একটি সমন্বিত সাংগঠনিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। কর্মজীবনের সাফল্য অত্যন্ত মূল্যবান, তবে তা নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে ঝুঁকিতে ফেলে নয়। কাজের চাপকে অবহেলা না করে সচেতন হোন, মনের যত্ন নিন, সহকর্মীর পাশে দাঁড়ান এবং কর্মক্ষেত্রকে শুধু কাজের জায়গা নয়- শেখা, বন্ধুত্ব, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব বিকাশের একটি মানবিক পরিবেশে পরিণত করুন।

সর্বোপরি সুস্থ মনই তৈরি করে সৃজনশীল কর্মী। সৃজনশীল কর্মীই তৈরি করে শক্তিশালী দল। আর শক্তিশালী দলই তৈরি করে দূরদর্শী নেতৃত্ব ও টেকসই প্রতিষ্ঠান।

এমএসএস

সম্পর্কিত খবর