প্রকাশিত:
১০ আগষ্ট ২০২৬, ২০:২২
মো. তোফাজ্জেল হোসাইন (মানিক): কর্পোরেট দুনিয়ায় একটি কথা বেশ প্রচলিত- "স্কিল বা দক্ষতা আপনাকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখে, কিন্তু রেপুটেশন বা সুনাম আপনাকে চ্যাম্পিয়ন করে।" ক্যারিয়ারের শুরুতে বা মধ্যভাগে স্কিল আপনাকে অনেকগুলো চমৎকার সুযোগ এনে দিতে পারে।
কিন্তু যখন আপনি লিডারশিপ বা শীর্ষ পর্যায়ের কথা চিন্তা করবেন, তখন দেখবেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় দরজাগুলো খুলছে কেবল একটি কারণে, আর তা হলো- রেপুটেশন।
স্কিলের ভূমিকা: প্রথম কদমের চাবিকাঠি
স্কিল হলো আপনার ক্যারিয়ারের শক্ত ভিত্তি। এটি আপনার সিভিতে যুক্ত হওয়া সেই যোগ্যতা, যা দেখে নিয়োগকর্তারা আপনাকে ইন্টারভিউ বোর্ডে আমন্ত্রণ জানান। আজকের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে, বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্স, ফিন্যান্স এবং অন্যান্য সেবা খাতে, টেকনিক্যাল জ্ঞান এবং সফট স্কিল ছাড়া এক পা-ও এগোনো সম্ভব নয়। একটি নির্দিষ্ট কাজ জানা এবং তা নিখুঁতভাবে করতে পারার ক্ষমতাই আপনার সামনে নিত্যনতুন ক্যারিয়ারের দরজা খুলে দেয়।
রেপুটেশনের জাদুকরী ক্ষমতা: বিশ্বাসের চূড়ান্ত রূপ
আপনার মতো একই স্কিল বা দক্ষতা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে হয়তো আরও শত শত পেশাজীবী কাজ করছেন। তাহলে আপনাকে কেন বিশেষ কোনো বড় দায়িত্ব দেওয়া হবে? কেন আপনাকে সাধারণের চেয়ে আলাদা করে মূল্যায়ন করা হবে? এখানেই আসে রেপুটেশন বা সুনামের প্রশ্ন।
রেপুটেশন একদিনে তৈরি হয় না। এটি হলো আপনার সততা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, সহকর্মীদের সাথে ইতিবাচক আচরণ এবং কঠিন সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ফসল। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো শীর্ষ পদের জন্য কেবল এমন কাউকে খোঁজে না যার দক্ষতা আছে; তারা এমন কাউকে খোঁজে যার ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়। ইন্স্যুরেন্স বা যেকোনো সেবা খাতে 'ট্রাস্ট' বা বিশ্বাস হলো সবচেয়ে বড় পুঁজি। একজন পেশাজীবী হিসেবে যখন আপনার নামের সাথে 'নির্ভরযোগ্যতা' শব্দটি যুক্ত হয়, তখন আপনাকে আর সুযোগ খুঁজতে হয় না, সুযোগই আপনাকে খুঁজে নেয়।
ইন্ডাস্ট্রিতে যখন আপনার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে, তখন দেখবেন কোনো আনুষ্ঠানিক চাকরির সার্কুলার ছাড়াই অনেক বড় বড় সুযোগ আপনার টেবিলে চলে আসছে। অন্যের রেফারেন্স, পার্টনারশিপ বা লিডারশিপের বড় অফারগুলো মূলত রেপুটেশনের ওপর ভিত্তি করেই আসে।
কীভাবে এই রেপুটেশন গড়ে তুলবেন?
কাজের ধারাবাহিকতা (Consistency): শুধু একদিন চমৎকার কাজ করলেই হবে না, কাজের মান ও পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।
প্রতিশ্রুতি রক্ষা (Keeping Promises): যা বলবেন, তা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। ডেডলাইন বা কাজের কোয়ালিটি নিয়ে কখনো আপস করবেন না।
সততা ও নৈতিকতা (Integrity): প্রফেশনাল এথিক্স বা পেশাদারিত্বের নৈতিকতা বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। সাময়িক লাভের জন্য শর্টকাটের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী সঠিক পথ বেছে নিন।
ইতিবাচক সম্পর্ক (Networking & Empathy): সহকর্মী, গ্রাহক, জুনিয়র বা সিনিয়র- সবার সাথেই ইতিবাচক ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখুন। আপনার আচরণই আপনার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড।
স্কিল আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাবে, একটি ভালো চাকরি বা প্রমোশন নিশ্চিত করবে। কিন্তু রেপুটেশন আপনাকে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে দেবে, যা হয়তো কোনো সার্টিফিকেশন বা ডিগ্রির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজের স্কিল ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি রেপুটেশন বা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়ের দিকে যত্নবান হওয়া উচিত। কারণ দিনশেষে, মানুষ আপনার স্কিলের চেয়ে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই বেশি মনে রাখে।
লেখক: হেড অব ট্রেনিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।
এমএসএস