প্রকাশিত:
৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮
এসএম নুরুজ্জামান: বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আর্থিক সুরক্ষা এবং সঞ্চয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো বীমা। আর এই বীমা খাতের একটি আধুনিক, শরীয়াহভিত্তিক ও দ্রুত বিকাশমান ধারা হলো ‘ইসলামী বীমা’ বা ‘তাকাফুল’।
বাংলাদেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর (Demographic Dividend) একটি দেশে ইসলামী বীমা খাত কেবল অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করছে না, বরং তরুণ প্রজন্মের জন্য তৈরি করছে স্মার্ট ও সময়োপযোগী কর্মসংস্থানের এক বিশাল সুযোগ।
একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণরা আজ গতানুগতিক পেশার বাইরে গিয়ে এমন একটি ক্যারিয়ার গড়তে চায়, যেখানে সম্মান, আর্থিক সচ্ছলতা এবং নৈতিকতার চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। ইসলামী বীমা ঠিক এমনই একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম।
ইসলামী বীমায় ক্যারিয়ার কেন স্মার্ট ও সময়োপযোগী?
বীমা পেশা নিয়ে আমাদের সমাজে একসময় যে পুরনো ধ্যান-ধারণা ছিল, তা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমান বীমা শিল্প প্রযুক্তিনির্ভর এবং অত্যন্ত আধুনিক। একজন তরুণের জন্য ইসলামী বীমা খাতে ক্যারিয়ার গড়া কেন যুগোপযোগী, সে বিষয়ে কয়েকটি পয়েন্ট এখানে আমি তুলে ধরতে চাই:
ইন্স্যুরটেক (InsurTech) ও প্রযুক্তির ব্যবহার: এখনকার বীমা খাত আর ফাইলের স্তূপে বন্দি নেই। জেনিথ ইসলামী লাইফসহ প্রথম সারির কোম্পানিগুলো এখন পুরোপুরি ডিজিটালাইজড। অ্যাপ-ভিত্তিক পলিসি ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা অ্যানালাইটিক্স এবং এআই-এর ব্যবহার তরুণদের জন্য এই কাজকে করে তুলেছে রোমাঞ্চকর ও স্মার্ট।
নৈতিক ও শরীয়াহভিত্তিক পেশা: তরুণদের একটি বড় অংশ এমন পেশায় যুক্ত হতে চায় যা নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। তাকাফুল বা ইসলামী বীমা সম্পূর্ণভাবে ইসলামী শরীয়াহর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যেখানে সুদ, জুয়া বা অস্পষ্টতার কোনো স্থান নেই। এটি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার দর্শনে বিশ্বাসী, যা পেশাগত তৃপ্তি দেয়।
দ্রুত প্রমোশন ও আনলিমিটেড আয়ের সুযোগ: কর্পোরেট দুনিয়ায় পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে এত দ্রুত ক্যারিয়ার গ্রোথ অন্য কোনো পেশায় খুব কমই দেখা যায়। মেধা, শ্রম ও নেটওয়ার্কিং স্কিল কাজে লাগিয়ে একজন তরুণ খুব অল্প সময়েই নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সমাজসেবা: বীমা পেশায় কাজ করার অর্থ হলো মানুষকে তার বিপদের দিনে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত করা। এটি শুধু একটি চাকরি নয়, বরং একটি মহান সমাজসেবা এবং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে (Financial Inclusion) সরাসরি অবদান রাখা।
জেনিথ ইসলামী লাইফ এবং তরুণদের কর্মসংস্থান
জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড সবসময়ই তরুণ এবং মেধাবীদের মূল্যায়ন করে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা এবং প্রযুক্তির প্রতি তাদের দক্ষতা আমাদের প্রতিষ্ঠানকে আরও বহুদূর নিয়ে যাবে।
তরুণদের জন্য একটি বিশ্বমানের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জেনিথ ইসলামী লাইফ বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
১. আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান: নতুন যুক্ত হওয়া তরুণ কর্মীদের আমরা বিশ্বমানের সেলস, লিডারশিপ এবং ডিজিটাল স্কিল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।
২. স্মার্ট ওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম: আমাদের কর্মীরা ঘরে বসেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা ও পলিসি ম্যানেজমেন্টের কাজ করতে পারছেন।
৩. আকর্ষণীয় ইনসেনটিভ ও স্বীকৃতি: কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সুযোগসহ আকর্ষণীয় ইনসেনটিভের ব্যবস্থা রয়েছে।
আগামী দিনের প্রস্তুতি
যেকোনো পেশায় সফল হতে হলে নিজেকে প্রস্তুত করার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামী বীমা খাতে সফল হতে চাইলে তরুণদের মধ্যে কয়েকটি গুণ থাকা জরুরি:
কমিউনিকেশন স্কিল: মানুষের সাথে কথা বলার দক্ষতা এবং তাদের প্রয়োজন বোঝার ক্ষমতা।
টেক-স্যাভি হওয়া: ডিজিটাল টুলস ও সোশ্যাল মিডিয়াকে ইতিবাচকভাবে মার্কেটিং ও নেটওয়ার্কিংয়ের কাজে ব্যবহার করা।
সততা ও ধৈর্য: শরীয়াহভিত্তিক এই পেশায় সততা সবচেয়ে বড় পুঁজি। পাশাপাশি গ্রাহকের আস্থা অর্জনে ধৈর্যের প্রয়োজন।
সর্বোপরি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা বাস্তবায়নে স্মার্ট অর্থনীতির বিকল্প নেই। আর এই স্মার্ট অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হবে আধুনিক বীমা শিল্প।
ইন্স্যুরেন্স জবস বিডি'র মাধ্যমে আমি দেশের শিক্ষিত, উদ্যমী এবং স্বপ্নবাজ তরুণদের আহ্বান জানাই- আসুন, ইসলামী বীমা শিল্পে যুক্ত হোন। এটি কেবল একটি চাকরি নয়, এটি একটি স্বাধীন পেশা, একটি সফল ক্যারিয়ার এবং দেশ গড়ার হাতিয়ার।
জেনিথ ইসলামী লাইফ আপনাদের এই পথচলায় বিশ্বস্ত সঙ্গী হতে সবসময় প্রস্তুত।
লেখক: মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।
এমএসএস